ইতিহাস লিখলো রমেশ স্কুল

ইতিহাস লিখলো রমেশ স্কুল

 

উদয়পুরের রাজপথ আজ শুধু রাস্তা ছিল না—ছিল ইতিহাসের সাক্ষী। ত্রিপুরার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বনেদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রমেশ স্কুল তার গৌরবময় ৭৫ বছরে পদার্পণের প্রাক্কালে এমন এক ঐতিহাসিক শোভাযাত্রার আয়োজন করল, যা রাজ্যজুড়ে নজির গড়ল।

প্রায় ৩ হাজার বর্তমান ছাত্রছাত্রী ও প্রাক্তনীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে, ২৯টি ভিন্নধর্মী ইভেন্টে সাজানো এই প্লাটিনাম জুবিলি শোভাযাত্রা গোটা উদয়পুর শহরকে রূপান্তরিত করল এক চলমান সাংস্কৃতিক মঞ্চে।রমেশ স্কুল—যে প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কেবল শিক্ষাদান নয়, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ধারক ও বাহক—আজ আবারও প্রমাণ করল তার শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত।

শহরবাসীর কাছে রমেশ স্কুলের শোভাযাত্রা মানেই এক বিশেষ প্রত্যাশা, এক অন্য রকম প্রাপ্তি। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতেই যেন বহুদিন পর পুরনো ফর্মে ফিরে এলেন স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঢাকিদের ঢাকের তালে মুখরিত হলো রাজপথ। চোখ ধাঁধানোভাবে একে একে ভেসে উঠল বাবা গড়িয়ার ভক্তদের নৃত্য, গ্রামবাংলার বহু পুরনো হারিয়ে যেতে বসা গাজন নৃত্য, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া বাউল গানের আসর, হরিনাম সংকীর্তন, রঙিন ডান্ডিয়া, প্রাণবন্ত ভাঙরা, ফুটবল নিয়ে ফুটবল টিমের কসরত এবং গণপতি বাপ্পা থিমের শক্তিশালী পরিবেশনা।শুধু উৎসব নয়—সমাজের প্রতিও ছিল জোরালো বার্তা। সিরিঞ্জ ও মাদকজাত নেশার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা পথনাটিকা শোভাযাত্রার অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হয়ে উঠে মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। সব মিলিয়ে মোট ২৯টি ইভেন্টে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য সমন্বয় দেখা যায়।

প্লাটিনাম জুবিলি উপলক্ষে রমেশ স্কুলের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা শহরের রাজপথে নামবে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল—প্রতিটি ইভেন্টই রাজপথের উপর লাইভ পারফরমেন্স হিসেবে পরিবেশিত হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি প্রাক্তনীরাও সমানতালে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন গোমতি জেলার জেলা সভাধিপতি দেবল দেবরায়, কাঁকড়াবনের বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, মাতাবাড়ির বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ার পার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার ও এই শোভা যাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন।জগন্নাথ চৌমুহনী, বিবেক সংঘ কর্নার, জামতলা, সেন্ট্রাল রোড, পুরান মোটর স্ট্যান্ড, মহাদেব দীঘির পশ্চিম পাড়, ভি-মার্ট কর্নার ও থানা কর্নার—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শক উপভোগ করেন প্রতিটি লাইভ পরিবেশনা।

শহরের পুরো রাজপথ ঘুরে মানুষের মনে আনন্দ, গর্ব ও আবেগের ছাপ রেখে এভাবেই সম্পন্ন হলো রমেশ স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবসের আগের দিনের ঐতিহ্যবাহী প্লাটিনাম জুবিলি শোভাযাত্রা।

উদয়পুরবাসীর মনে এই দিন শুধু উৎসব নয়—একটি ইতিহাস হয়ে থেকে গেল।

সম্পরকিত খবর